শনিবার, ০৪ Jul ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ন
তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : টেক জায়ান্ট গুগল ঘোষণা করেছে, তুরস্কের বাজারে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি আর গুগল মোবাইল সার্ভিস (জিএমএস) লাইসেন্স প্রদান করবে না। এর ফলে গুগল সার্চ, গুগল ক্রোম, ইউটিউব, গুগল প্লে স্টোর, জিমেইল, গুগল ম্যাপস, গুগল ড্রাইভ, গুগল ফটোজের মতো অন্যান্য জনপ্রিয় পরিষেবাগুলোও ব্যবহার করা যাবে না নতুন ফোনগুলোতে।
আর এটি শুধু স্থানীয় স্মার্টফোন নির্মাতাদের জন্য নয়, বরং সকল অ্যান্ড্রয়েড ফোন নির্মাতাদের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে গুগল। অর্থাৎ দেশটির বাজারে সকল ব্র্যান্ডের নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোতে গুগলের সেবাগুলো আর ব্যবহার করা যাবে না।
উল্লেখ্য যে, চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যে যুদ্ধের প্রভাবে ইতিমধ্যে হুয়াওয়ের নতুন ফোনে জিএসএম লাইসেন্স স্থগিত করেছে গুগল। তবে এর সঙ্গে সঙ্গে তুরস্কের বিষয়ে গুগলের সিদ্ধান্তের কোনো যোগসূত্র নেই। বরং তুরস্কের সঙ্গে গুগলের ঝামেলার সূত্রপাত অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগলের ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন ঘিরে।
ইতিমধ্যে যারা অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করছেন বা বাজারে যেসব অ্যান্ড্রয়েড ফোন রয়েছে সেগুলোতে গুগলের সেবা চলমান থাকবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যমান ফোনগুলোতে ওএস আপডেট সেবাও স্থগিত করতে পারে গুগল, যা বর্তমান ব্যবহারকারীদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হতে পারে।
৪ বছর আগে রাশিয়ান সার্চ ইঞ্জিন সেবাদাতা ‘ইয়ানডেস্ক’ অভিযোগ তুলেছিল যে, গুগল তাদের সফটওয়্যার ডিস্ট্রিবিউশন চুক্তিগুলোকে এমনভাবে পরিবর্তন করেছে, যা অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমচালিত মোবাইল ফোনে গুগলের নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিনের পরিবর্তে বিকল্প কোনো সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি। আর রাশিয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ২০১৮ সালে তুরস্কও একই ধরনের অভিযোগে গুগলকে থার্ড পার্টি সেবা ব্যবহারের সুযোগ দেয়ার নির্দেশের পাশাপাশি ১৭.৪ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করে।
মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল এক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন নিয়ে আসলেও, তা তুরস্কের কমপিটিশন কর্তৃপক্ষকে সন্তুষ্ট করেনি (ব্যবহারকারীরা এখনও ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন বেছে নিতে পারেনি)। এছাড়া এই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কমপিটিশন কর্তৃপক্ষ গুগলের দৈনিক আয় থেকে ০.০৫ শতাংশ অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করে এবং এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেয়।
গুগলের বিরুদ্ধে তুরস্কের কমপিটিশন কর্তৃপক্ষের আরেকটি তদন্তের প্রাথমিক ফলাফলে বলা হয়েছে, গুগল তাদের পরিষেবাগুলোকে এগিয়ে রাখতে সার্চ এবং অ্যাড এর ক্ষেত্রে নিজেদের প্রভাবশালী অবস্থানের অপব্যবহার করছে স্থানীয় প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলতে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তুরস্ককে সিদ্ধান্ত বদলাতে ও চাপে রাখতেই জিএমএস লাইসেন্স স্থগিতের পদক্ষেপ নিয়েছে গুগল।
নগরকন্ঠ.কম/এআর